বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ডিজিটাল প্রক্রিয়া ‘ই-রিকুইজিশন’-এ দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে দেশের ২৩৭টি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। শূন্য পদের ভুল তথ্য পাঠানো এবং নির্ধারিত সময়ে তা যাচাই না করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
মঙ্গলবার মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে একযোগে এই ২৩৭ জন অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তাদের এমপিও বন্ধ এবং গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
মাউশি জানায়, কলেজগুলোর এ ধরনের ভুল ও অসতর্ক তথ্যের কারণে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত যোগ্য প্রার্থীরা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
সম্প্রতি দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের মোট ২ হাজার ৩৩৭টি কলেজের শূন্য পদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে মাউশি।
এর মধ্যে ২ হাজার ১০০টি পদের তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও ২৩৭টি পদের চাহিদা সম্পূর্ণ ভুল ও ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভুল তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চল, যেখানকার কলেজগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১২১টি পদে ভুল চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বরিশাল অঞ্চলে ৩৯টি, খুলনা অঞ্চলে ৩৮টি, রাজশাহীতে ১৪টি, রংপুরে ১১টি, ঢাকায় ৫টি, সিলেটে ৪টি, ময়মনসিংহে ৩টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ২টি পদের ভুল তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
এ ধরনের গাফিলতির কারণে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৮.১ (ঘ) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের এমপিও কেন স্থায়ীভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
একই সঙ্গে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে শোকজের জবাব ও প্রয়োজনীয় মতামত মাউশিতে পাঠাতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর