• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫৩ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ শাকিল শেখ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (সাভার ও ধামরাই)
প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৫১ রাত

আশুলিয়ায় মাদ্রাসার পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে রিভলবার-গুলি উদ্ধার; কর্তৃপক্ষকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুর গনকবাড়ী এলাকার তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসাকে ধ্বংস ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুকুলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল। আবারও প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র রেখে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, দুষ্কৃতকারী চক্র গোপনে মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পরিত্যক্ত নির্মাণাধীণ টয়লেটে অস্ত্র রেখে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তবে র‍্যাব-৪ এর অভিযানে সেই অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় রহস্যজনক এ ঘটনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) সকালে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিযান চালিয়ে একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন র‍্যাব।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে বিতর্কিত করতে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে পরিত্যক্ত ও ব্যবহারবিহীন মহিলা টয়লেটে গোপনে অস্ত্র রেখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীণ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, মুকুল ও ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকিকের মদদে এ ষড়যন্ত্র সংঘটিত হয়েছে।

মাদরাসার সহকারী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আলী আশরাফের ভাতিজা সৈয়দ আলী সানজিদ দাবি করেন, তাহফিজুল কুরআনিল কারিম স্নাতক ফাজিল মাদরাসাকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুষ্কৃতকারীরা গোপনে মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পরিত্যক্ত মহিলা টয়লেটে অস্ত্র রেখে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও তাদের মদদদাতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

তিনি আরও বলেন, যে স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে সেটি একটি পরিত্যক্ত ও ব্যবহারবিহীন টয়লেট। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে সেখানে অস্ত্র রাখা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এর সাথে কে বা কারা জড়িত, তাদেরকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবীও জানান তিনি।

র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি টহল দল মাদরাসা প্রাঙ্গণে অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে অভিভাবকদের ওয়েটিং রুমের পাশের নির্মাণাধীণ ও পরিত্যক্ত ওয়াশরুমে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকটি ইটের নিচে রাখা একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে ব্যাগের ভেতর থেকে একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রের উৎস এবং কারা এটি সেখানে রেখে গেছে তা উদঘাটনে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি র‍্যাব আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে কারা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এদিকে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকাল ৮.৩৫ মিনিটের সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক থেকে প্রথমে একটি ভ্যান প্রবেশ করে। এরপরেই নীল রংয়ের জিন্সের প্যান্ট ও পলো শার্ট পরহিত এক ব্যাক্তি মোটর বাইক নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। পরে প্রধান ফটক সংলগ্ন অফিসের সামনে তার বাইকটি রেখে হাঁটতে হাঁটতে মোবাইলে কথা বলতে বলতে অস্ত্র উদ্ধারের নির্মাণধীন সেই রুমের সামনে আসে। এবং একটু এদিক সেদিক তাকিয়ে তড়িঘড়ি করে ওই রুমের মধ্যে ঢুকে পরে। এর কিছুক্ষণ পরে ওই রুম থেকে বের হয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে চলে যায়।

এই ঘটনার পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনেকটা পিছিয়ে পড়বে বলে এমনটাই মনে করেন শিক্ষানুরাগীরা।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]