বরিশাল নগরীর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্য মেলার দর্শনার্থীদের জন্য স্থাপিত গণশৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে ওঠার অভিযোগে শৌচাগারটি ভেঙে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে শৌচাগারটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মানববন্ধনের একদিন পর গত ১৮ জুন শিক্ষার্থীরা সেটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
জানা গেছে, নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জিলা স্কুলের মালিকানাধীন পরেশ সাগর মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা চলছে। মাঠের পাশেই কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষ। সেখান থেকে আনুমানিক ১০ গজ দূরে মেলার গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। মেলার আয়োজক বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। আশপাশের আরও ৪ থেকে ৫টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পরেশ সাগর মাঠ ব্যবহার করে। খেলার মাঠে মেলা আয়োজন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ জানিয়ে মেলা বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন মানবাধিকারকর্মী রণি সিকদার। এর প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মেলার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ঈদ-উল আজহার দুইদিন আগে সরকারি ছুটির মধ্যে মেলার উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ও বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অতিথি করা হলেও তারা কেউ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসেননি।
ঈদ-উল আজহার ছুটির পর গত ৭ জুন থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ছুটির পর ক্লাসে ফিরে শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধের কবলে পড়ে। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশও অসহনীয় হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে গত ১৭ জুন নগরীর টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে কোনো কাজ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরের দিন স্কুল ছুটির পর গণশৌচাগারের টিনের বেড়া ভেঙে দেয়।
কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অলিউল ইসলাম জানান, গণশৌচাগার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অসহনীয় পরিবেশের বিষয়টি বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জিএম আতায়ে রাব্বী বলেন, বিষয়টি নিয়ে চেম্বারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর