বাংলাদেশে জর্দা, গুল ও সাদাপাতার মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এসব পণ্যের মূল্য ও কর কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির কারণে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য বাস্তবে আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে পড়ছে। আজ শনিবার তামাক বিরোধী নারী জোট—তাবিনাজ আয়োজিত “বাজেট-উত্তর ধোঁয়াবিহীন তামাক কর নীতি আলোচনা” শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ওয়েবিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০.৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন, যার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ। নারীদের মধ্যে এই ব্যবহার আরও বেশি—২৪.৮ শতাংশ। অথচ ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৪৮ টাকা এবং ১০ গ্রাম গুলের দাম ২৫ টাকাতেই স্থির রয়েছে। একই সময়ে খাদ্য, ওষুধ, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ৯.৪২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ধোঁয়াবিহীন তামাকের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮.৬ শতাংশ কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞ আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ায়। নারী, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দামের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। তাই ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করলে ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি পরিবারে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ব্যয় সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছে; ফলে তামাক করকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
ওয়েবিনারের সভাপ্রধান উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ধোঁয়াবিহীন তামাক নারীর স্বাস্থ্য, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নীরব বিপদ। সস্তা তামাক মানে গরিব মানুষের রোগের ঝুঁকি বাড়ানো। তিনি বলেন, বাজেটে জর্দা ও গুলের দাম না বাড়ানো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে বড় ধরনের অবহেলা; সরকারকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
ওয়েবিনারে উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু স্বাগত বক্তব্য দেন এবং উবিনীগের প্রোগ্রাম অফিসার বায়েজিদ লিমন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সারাদেশ থেকে তাবিনাজ সদস্যবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় অংশ নেন।
তাবিনাজের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে উভয় পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতি ১০ গ্রামে ২ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে। বক্তারা বলেন, মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় না করলে ধোঁয়াবিহীন তামাক আরও সস্তা হবে, ব্যবহার বাড়বে এবং নারী ও জনস্বাস্থ্য আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর