• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৬ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
মো: সাইফুল আলম সরকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৬, ০১:৩৪ দুপুর

মানবিক কর্মকান্ডের স্থানীয়করণ এবং একটি নিরাপদ প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ দাবি স্থানীয়দের

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১.৬মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকে, বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় মানুষ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। কিন্তু দিনে দিনে  মানবিক তহবিল ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায়, স্টেকহোল্ডাররা আরও স্বল্পব্যয়ে এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত কার্যক্রমের উপর জোর দিয়েছেন।

২০২৬ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (JRP) কক্সবাজার এবং ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় মানুষদের সহায়তা করার জন্য ৭১০.৫ মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত, শুধুমাত্র ৩৬৮,৩ মিলিয়ন পাওয়া গেছে, যা অর্ধেকেরও কম। এই পটভূমিতে, স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে স্থানীয় এনজিওগুলিকে মূলত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান ২০২৬ বাস্তবায়ন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত ছিল।

আজ কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে এসব উদ্বেগ উত্থাপন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান সাড়াদান প্রক্রিয়া জাতিসংঘের “হিউম্যানিটারিয়ান রিসেট”-এর নীতিগুলিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। রিসেট স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বে এবং বিশ্বব্যাপী সমর্থিত এক মানবিক পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। এটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় এবং জাতীয় সংগঠনগুলোর জন্য ৭০% পর্যন্ত পুল ফান্ড তহবিল প্রদানের কথা বলে।

কিন্তু সাম্প্রতিক UN OCHA-এর ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন প্রদানের ক্ষত্রে তা ঘটেনি। এই তহবিল এর ৯২% গেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলিতে এবং ৮% আন্তর্জাতিক এনজিওগুলিতে। স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি কোনও তহবিল পায়নি৷ বক্তারা একটি নতুন জয়েন্ট রিপেট্রিয়েশন প্ল্যান "JRP 2.0" ফ্রেমওয়ার্কের জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন যা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ হবে। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মোঃ ইকবাল উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ সদস্য সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

মোঃ ইকবাল উদ্দিন তার মূল বক্তব্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ভূত এবং স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক কর্মসুচি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবার আহবান জানান। এছাড়া তিনি স্থানীয় এনজিওর সংজ্ঞা সংশোধনের দাবি জানান। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন এবং আরআরআরসি-এর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের সাথে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (JRP) বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি); ডেভিড বাগডেন, রোহিঙ্গা সমন্বয় প্ল্যাটফর্মের প্রধান; মার্সেল গ্রোগান, ইউএনএইচসিআর-এর স্ট্র্যাটেজিক ওভারসাইট সার্ভিসের প্রধান; মর্জিনা আক্তার, টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কলিম উল্লাহ; পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ; পালস বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম; হেলাল উদ্দিন, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য; সিবিএন নিউজের ইমাম খায়ের; সৈয়দ মোঃ আনোয়ার, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি; এনসিপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক; প্রথ ম আ লোর সাংবাদিক আবদুস শুকুর রানা; রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর কাশেম; অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের নীলিমা আক্তার চৌধুরী; সাংবাদিক নুরুল ইসলাম; হেল্প কক্সবাজারের আবুল কাশেম; টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী; এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন যে রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে অভিবাসনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং গভীর নলকূপের বিকল্পগুলি অন্বেষণ করে ভূগর্ভস্থ পানির ক্ষয় মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি জোর দেন। ডেভিড বাগডেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তার জন্য ধন্যবাদ দেন এবং প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। মার্সেল গ্রোগান সমন্বিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং স্বাগতিক দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বিকল্প পানির উৎস হিসেবে পরিশোধিত নাফ নদীর পানি বিতরণের আহ্বান জানান। মর্জিনা আক্তার ক্যাম্পে মাদক পাচার ও অস্ত্রের ব্যবসা রোধ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। কলিম উল্লাহ টেকনাফ ও উখিয়ায় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে অ্যাডভোকেট সাকি কাওসার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন। ইমাম খায়ের স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন এবং সৈয়দ মোঃ আনোয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলির বৃহত্তর সম্পৃক্ততার পক্ষে কথা বলেন। ওমর ফারুক, অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিক এবং মাহাবুবুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন বক্তা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]