বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ২০০১ সালের প্রতিশ্রুত স্থানে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের নয়মাইল এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও ছাত্র প্রতিনিধিসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামালপুর এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের দূরবর্তী অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জামালপুর এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, মনোরম পরিবেশ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া এটি নির্মাণাধীন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ ও প্রস্তাবিত স্টেশন এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-এর একদম নিকটবর্তী। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, আবাসন, পরিবহন ও সেবাখাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বগুড়ার কৃতী সন্তান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফর শেষে ফেরার পথে জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন। এছাড়া বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে এই দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
বক্তারা অবিলম্বে সকল ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল রুখে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত স্থানেই ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় আগামীতে দাবি আদায়ে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হাকিম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ, সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা আব্দুস ছালাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারেজ উদ্দিন, আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, মাদলা ইউপি চেয়ারম্যান আতিক, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ জাফর আলমগীর এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুর রহমান।
এ ছাড়া আরও অংশ নেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আইয়ুব ছোটন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অভ্র, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাদশা সরকার, দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা তমেজ উদ্দিন, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনূর আক্তার, সাধারণ সম্পাদক সুমী আক্তার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জোসনা বেগমসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর