একের পর এক স্বজন হত্যার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। আট বছর আগে চাচাতো ভাইকে হারিয়েছেন, বিচার মেলেনি আজও। সেই ক্ষত শুকানোর আগেই সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেছে মামাতো ভাইয়ের। বিচারহীনতা আর স্বজন হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল তোতা (৪০)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জলিল তোতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রথমে সমর্থক, পরে সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এমনকি একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়া আব্দুল জলিল তোতা বলেন, “২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। এরই মধ্যে ২১ জুন আমার মামাতো ভাই, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার বিচার আদৌ পাব কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানোর কষ্ট আর বিচারহীনতার অভিজ্ঞতা আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভেদ আর রক্তপাত বাড়াচ্ছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতির সঙ্গে থাকতে চাই না। নিজেকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে প্রতীকীভাবে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন আমি শুধু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে শান্তিতে বাঁচতে চাই।”
কণ্ঠ ভারী করে তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
এদিকে আব্দুল জলিলের এমন ঘোষণাকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ। তিনি বলেন, “আব্দুল জলিল বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি দলের কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। তাই তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি নেবে না।”
স্থানীয়দের মতে, স্বজন হারানোর শোক ও বিচারহীনতার হতাশা থেকেই এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আব্দুল জলিল। দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার একটাই দাবি—রাজনৈতিক পরিচয় নয়, স্বজন হত্যার সুষ্ঠু বিচার।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর