ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার প্রায় এক বছর আগে তাদের গ্রামের বাড়িতে ‘লাল বাহিনী’ নামে কথিত একটি ডাকাত দলের পক্ষ থেকে উড়ো চিঠি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না করলে প্রবাসী ছেলে ও নাতিকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্বজনরা।
নিহতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের একমাত্র ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামের পাঁচ মেয়ের মধ্যে একমাত্র ছেলে ছিলেন কামাল উদ্দিন বাবুল। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। পরে স্ত্রী ও সন্তানকেও সেখানে নিয়ে যান। পরিবারটি রোমে একসঙ্গে বসবাস করছিল।
শনিবার সকালে ইতালিতে অবস্থানরত স্বজনদের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। মর্মান্তিক এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্বজনদের দাবি, ২০২৫ সালের ২ জুলাই রাতে সিরাজুল ইসলামের গ্রামের বাড়ির ফটকের নিচে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। ওই চিঠিতে পরিবারের কাছে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে প্রবাসী ছেলে ও নাতিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া পরিবারের পুত্রবধূকে গণধর্ষণের ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
হুমকির বিষয়টি জানিয়ে পরবর্তীতে নিরাপত্তা চেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সিরাজুল ইসলাম। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, বিষয়টি সে সময় মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তবে ইতালিতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক বছর আগে পাওয়া ওই উড়ো চিঠির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্বজনরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর