চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন দীর্ঘ সময়। তবুও হাল ছাড়েননি, মনোবল ধরে রেখে লড়ে গেছেন চোটের বিরুদ্ধে। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের কঠোর পরিশ্রম সফলতা পেয়েছেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৮১ দিন পর হলুদ জার্সিটা গায়ে জড়িয়েছেন তিনি। যদিও মাঠে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য সময়টা বেশি পাননি তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ হয়েছে। ‘সি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ৩২- এর লড়াইয়ের টিকিট কেটেছে ব্রাজিল। সেই লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান৷ আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
আগের চেয়ে এখন আরও ফিট নেইমার৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই জাপান ম্যাচের আগেও নেইমারকে নিয়েই আলোচনা– এই ম্যাচে কি শুরুর একাদশে খেলবেন নেইমার? বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে হয়েছে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকেও। শুরুর একাদশের নিশ্চয়তা না দিলেও ব্রাজিল ভক্তদের আশার বাণী শুনিয়েছে ব্রাজিলের ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড।
সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, গত এক সপ্তাহে নেইমারের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে না পারলেও এবার জাপানের বিপক্ষে তাকে আরও দীর্ঘ সময় মাঠে দেখা যেতে পারে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে তার উন্নতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগের ম্যাচে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। তবে তিনি এখন আরও বেশি সময় মাঠে থাকার মতো যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছেন।’
জাপানকে নিয়ে বেশ সতর্ক ব্রাজিল কোচ। কারণ নিজেদের সর্বশেষ দেখায় টোকিওতে জাপানের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল সেলেসাওরা। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা আছে যে, জাপান বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। তাদের জন্য আমাদের পূর্ণ সম্মান আছে এবং প্রস্তুতিটাও ফাইনাল খেলার মতো করেই নিচ্ছি। আমাদের কাছে এটিও একটি ফাইনাল। শক্তিশালী মানসিকতা ও হৃদয় নিয়ে খেলতে হবে। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। দল অনুপ্রাণিত এবং আত্মবিশ্বাসী। তবে এই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচই খুব কঠিন।’
শুরুর একাদশ নিয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না খুব বেশি পরিবর্তন আসবে। শেষ অনুশীলনের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আমাদের পুরো মনোযোগ থাকতে হবে। আমরা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি এবং মাঠে কী করতে হবে তা আমরা পরিষ্কারভাবে জানি।’
নকআউট ম্যাচের চাপ নিয়ে অবশ্য খুব একটা উদ্বিগ্ন নন আনচেলত্তি। তার বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুত। হাস্যরস করেই তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা বেশ ভালো ঘুমাবে। প্রধান কোচের চেয়েও ভালো, এটুকু বলতে পারি।’
এ ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে এখনই কোনো দলকে স্পষ্ট ফেভারিট মানতে নারাজ ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি কোচ। আনচেলত্তির ভাষায়, ‘গ্রুপপর্বে হয়তো কিছু দল অন্যদের চেয়ে একটু এগিয়ে ছিল। কিন্তু এখনও আমি মনে করি না কোনো দল স্পষ্ট ফেভারিট হয়ে উঠেছে। এটি খুব কঠিন এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা।’
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর