মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে পাল্টা মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার বিরোধী অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী বানানোর জন্য আগে বিএনপিরই জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “বাংলাদেশবিরোধীদের কি বিএনপি পুরস্কৃত করেনি? তারা বলে জামায়াতের ওপর ভূত চেপেছে। এখন দেখা যাচ্ছে সরকার ও সরকারি দলের ওপরও ভূত চেপেছে। বিএনপি মহাসচিবের মাথাতেও ভূত চাপে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয় সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি— এটাই বিএনপির অবস্থান।”
অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “যে ভাষায় জামায়াতকে প্রশ্ন করা হয়, আমাদেরও প্রশ্ন আছে। স্বাধীনতার পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে অন্তত ১৫-১৬ জন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য করেছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে ছিলেন। কেন তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিল এবং ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে ১১ দল ঘোষিত সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নেবে জামায়াত। একই দিনে দলের মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জুলাই হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার এবং গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের, এটিএম মাছুম, হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, আবদুল হালিমসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর