চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।
এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৭ জন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
সারা দেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
বোর্ডভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে ৩১০টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১১টি কেন্দ্রে মোট ৭৩ হাজার ৩৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মোট ১৬টি কেন্দ্র/ভেন্যুতে। কেন্দ্রগুলো হলো সরকারি আনন্দমোহন কলেজ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, অ্যাডভান্স রেসিডেন্সিয়াল কলেজ, কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসা, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়, মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসা, মহাকালী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, আলমগীর মনসুর মেমোরিয়াল কলেজ, মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাসিরাবাদ কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ এবং জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল নজরদারিসহ সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন।
পরীক্ষার্থীদের জন্য জারি করা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া, ওএমআর শিটে সঠিকভাবে তথ্য পূরণ, উত্তরপত্র ভাঁজ না করা, শুধুমাত্র সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার, বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল পরীক্ষার মধ্যে বিরতি না থাকা এবং কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ না করা। এছাড়া তত্ত্বীয়, এমসিকিউ ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব প্রতিরোধ ও পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা পরিচালনার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪(১) ধারা জারি করা হয়েছে। এ আদেশ অনুযায়ী পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কারো প্রবেশ, পাঁচজনের অধিক ব্যক্তির সমাবেশ, মাইক বা এমপ্লিফায়ার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তারা সর্বাত্মকভাবে বদ্ধপরিকর।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর