পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভ করা অভিযোগকারী নারী রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে তেঁতুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় রেহেনা বেগম উর্মিকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী মনোয়ার, যিনি তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। তবে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম বলেন, এ বিষয়ে একটি সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলমান। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. ইমাম রাজী টুলু বলেন, গত সোমবার অভিযোগকারী নারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার অভিযোগকারী রেহেনা বেগম উর্মি দাবি করেন, গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি টাকা ফেরত চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। এরপর তিনি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ তোলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগেই বাতিল করা হয়েছিল এবং অভিযোগকারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরুকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর