চুলের যত্নে ভোক্তাদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা লিলি সিরাম ওয়েল এখন দেশজুড়ে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। সুপারশপ ও মডার্ন ট্রেড আউটলেটের পাশাপাশি দেশের শহর, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের কসমেটিকস শপ, বিউটি স্টোর এবং মুদি-মনোহরি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে এই হেয়ারকেয়ার পণ্য।
শুরু থেকেই লিলি সিরাম ওয়েলের বিশেষ আকর্ষণ এর ব্যবহারবান্ধব প্যাকেজিং। বোতলের ক্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত অ্যাপ্লিকেটরের মাধ্যমে সরাসরি চুলের গোড়া বা স্ক্যাল্পে তেল প্রয়োগ করা যায়। রুট অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক এই পদ্ধতি তেলের অপচয় কমিয়ে চুলের পরিচর্যাকে আরও সহজ ও কার্যকর করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রথম সিরাম সমৃদ্ধ হেয়ার ওয়েল হিসেবে বাজারে আসা লিলির দুটি ভ্যারিয়েন্ট - অ্যাডভান্সড অ্যান্টি হেয়ার ফল সিরাম ওয়েল ও অ্যাডভান্সড হেয়ার গ্রোথ সিরাম ওয়েল এরইমধ্যে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চুল পড়া কমাতে সহায়তা, চুলের গোড়া শক্ত করা এবং সামগ্রিক পরিচর্যায় সহায়ক উপাদানের কারণে পণ্য দুটি দ্রুত ভোক্তাদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
লিলির সিরাম ওয়েলে রয়েছে আট ধরনের প্রাকৃতিক তেলের সমন্বয়। কোকোনাট অয়েল চুলে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে, কারি অয়েল চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে, মেথি অয়েল খুশকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ক্যাস্টর অয়েল চুলের ভাঙন কমাতে সাহায্য করে, অনিয়ন অয়েল চুলের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। পাশাপাশি ভৃঙ্গরাজ অয়েল চুল পড়া কমাতে, ব্ল্যাকসিড অয়েল ফলিকল শক্তিশালী করতে এবং হিবিসকাস অয়েল চুলকে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করে।
এডভান্সড অ্যান্টি হেয়ার ফল সিরাম ওয়েলে ভিটামিন ই ও সি যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নিয়মিত ব্যবহারে এটি চুল পড়া কমাতে, চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং খুশকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, এডভান্সড হেয়ার গ্রোথ সিরাম ওয়েল চুলের শুষ্কতা কমিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে।
লিলির চিফ বিজনেস অফিসার আবির আদনান বলেন, বাজারে আনার আগে লিলি সিরাম ওয়েলের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ক্লিনিক্যাল স্টাডি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহারে ভোক্তারা প্রত্যাশিত ফল পেতে পারেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে গত ঈদ থেকে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের চাহিদা ও ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সাইজ বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে নতুন প্রবলেম-সলভিং হেয়ার ওয়েল বাজারে আনারও উদ্যোগ চলছে।
রিমার্কের ন্যাশনাল সেলস ডিরেক্টর কামাল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক উপাদান ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সমন্বয়ে তৈরি লিলি সিরাম অয়েল অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রতিনিয়ত এর চাহিদা বাড়ছে এবং পুনঃক্রয়ের হারও উৎসাহব্যঞ্জক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিক্রয়কেন্দ্র ও খুচরা দোকানগুলোয় পণ্যটি দ্রুত স্থান করে নিচ্ছে। বিক্রেতাদের আগ্রহ, ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া এবং বাজারে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করছে যে, লিলি সিরাম অয়েল দেশের হেয়ার কেয়ার বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে হেয়ার-ওয়েলের মোট বাজারের আকার প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রবলেম-সলভিং হেয়ার ওয়েলের বাজার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা, যা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন পণ্য হওয়া সত্ত্বেও এই ক্যাটাগরিতে লিলি সিরাম ওয়েলের প্রবৃদ্ধি বাজারের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশের (এএসবিএমইবি) সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দীন বলেন, লিলি সিরাম ওয়েলের মতো উদ্ভাবনী পণ্য দেশীয় ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পের সক্ষমতার উদাহরণ। এসব পণ্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রিমার্ক এলএলসি ইউএস-এর অ্যাফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড অত্যাধুনিক নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে উন্নত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ফর্মুলেশন ব্যবহার করছে। বিশ্বমানের আধুনিক ল্যাবরেটরিতে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আওতায় লিলি, নিওর, ব্লেইজ-ও-স্কিন, সিওডিল, একনল, টাইলক্স, অরিক্স, সানবিট, কেভোটিন ও স্কিন মিন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড বাজারে আনা হচ্ছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর