• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩০ সেকেন্ড পূর্বে
আবুল বাশার শেখ
ভালুকা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৩৯ রাত

সমঝোতা না করায় ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘সমঝোতা’ না করায় মোঃ বাপ্পী আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ বিলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে ভালুকা মডেল থানার ৫ পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোঃ বিলায়েত হোসেন, এএসআই মেহেদী হাসান, এএসআই তোফাজ্জল হোসেন, এএসআই সালাউদ্দিন ও এএসআই আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ বাপ্পী আহমেদ।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন ভোরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া ইম্প্রেসিভ মোড় এলাকার মৃত আব্দুস ছামাদ মিয়ার ছেলে মোঃ সবুজ মিয়াকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেন এসআই বিলায়েত হোসেন। গ্রেপ্তার অভিযানে সহযোগী সঙ্গীয় ফোর্স এএসআই মেহেদী হাসান, এএসআই তোফাজ্জল হোসেন, এএসআই সালাউদ্দিন ও এএসআই আনোয়ার হোসেন অংশ নেন। পরে এসআই বিলায়েত হোসেন বাদী হয়ে একটি মাদক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বাপ্পী আহমেদকে পলাতক আসামি করা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও ন্যায়বিচার চেয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বাপ্পী আহমেদ।

অভিযোগে বাপ্পী আহম্মেদ বলেন, তিনি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বল্লী গ্রামের মোঃ আব্দুল হকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া ইম্প্রেসিভ মোড় এলাকার কাজিম উদ্দিন (কাজি মেম্বার) এর বাসায় ভাড়া থেকে একটি ছোট ডাল-পুরির দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিভিন্ন সময় পুলিশ সদস্যরা তার দোকানে এসে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য নিতেন। পরিচিত মানুষ হিসেবে তিনি যতটুকু জানতেন, ততটুকুই জানাতেন। তবে কয়েক মাস আগে এসআই বিলায়েত হোসেন তার সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ শুরু করেন। এই সূত্র ধরে তিনি একদিন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে থানায় ডাকেন। থানায় গেলে এসআই বিলায়েত তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোকে হেরোইন দিয়ে মামলা দেব।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গোপালগঞ্জের লোক। সাভার-আশুলিয়ায় চাকরি করার সময় তোর মতো অনেক মানুষকে মাদক মামলায় জেলে ঢুকিয়েছি। মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকতে হবে না, আমি জড়িত বানিয়ে দিতে পারি।’

বাপ্পীর দাবি, ওই সময় এসআই বিলায়েত তাকে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক টাকা তোলার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং বলেন, ‘তুই কেমনে এলাকায় থাকস, আমি দেখব। আমার সম্পর্কে সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে দেখ, কত মানুষকে জেলে ঢুকিয়েছি।’

অভিযোগপত্রে বাপ্পী উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘বিউটিফুল ভালুকা’ নামের একটি ফেসবুক পেইজে সবুজ মিয়াকে ৩২৪ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তারের পরে ৩২৪ পিস ইয়াবা থেকে ২০ পিসে পরিবর্তিত হয়। পরদিন তিনি জানতে পারেন, ওই ঘটনায় দায়ের করা ভালুকা থানার মামলা নং ৩৭ (৬) ২৬, জিআর নং ২২৯ (২৩/০৬/২০২৬)-এ তাকে সবুজ মিয়ার সহযোগী হিসেবে পলাতক আসামি করা হয়েছে।

বাপ্পীর অভিযোগ, মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন সোহেল মিয়া ও দুলাল মিয়া, তারা এসআই বিলায়েতের ভাড়া করা সিএনজি চালক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও এজাহারে তাকে পালিয়ে যাওয়ার কথা কীভাবে উল্লেখ করা হলো? যদি তিনি পালিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করতে বা তার বাড়িতে কেন অভিযান চালানো হয়নি?

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা রাত প্রায় ৪টা সাত মিনিটে সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন, যা বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। অথচ জব্দতালিকায় সময় উল্লেখ করা হয়েছে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট। এছাড়া তিনি দাবি করেন, ২২ জুন রাত ৯টা ২২ মিনিটে তিনি নিজ বাসায় প্রবেশ করেন এবং ২৩ জুন সকাল ৯টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত বাসাতেই ছিলেন। বাসার সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে এবং ওই সময়ের মধ্যে তিনি একবারও বাইরে যাননি। ডিআইজির কাছে দেওয়া অভিযোগে বাপ্পী আহম্মেদ তার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (সিডিআর), থানার সিসিটিভি ফুটেজ, বাসার সিসিটিভি এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মোঃ বিলায়েত হোসেন বলেন, ‘সবুজ নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বলছে বাপ্পী তাকে সহযোগিতা করে।’ কিন্তু এজাহারে বাপ্পী দৌড়ে পালিয়ে গেছে লিখেছেন কেন জানতে চাইলে, সব সাক্ষাতে বলবেন বলে জানান। তার বিরুদ্ধে ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই বিলায়েত বলেন, ‘আমার নামে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই।’

২৩ জুন ভোরে সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের অভিযানে থাকা সঙ্গীয় ফোর্স এএসআই মেহেদী হাসান বলেন, ওইদিন রাতে সবুজের বাসার গেটের সামনে থেকে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বাপ্পী বা কাউকে দৌড়ে পালাতে দেখেননি। এএসআই তোফাজ্জল হোসেন ও এএসআই সালাউদ্দিন বাপ্পীর সাথে ফোন আলাপে একই কথা জানান, তারা কেউই বাপ্পীকে পালাতে দেখেননি। তাহলে কেন তাকে পলাতক আসামি করা হয়েছে জানতে চাইলে, সালাউদ্দিন জানান, এসআই বিলায়েত ওসির লোক, ওসি ও বিলায়েত ভালো জানে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত মহিদুল ইসলাম জানান, ডিআইজি কার্যালয়ে ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে তিনি শুনেছেন। যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা ওই কার্যালয় থেকেই নেওয়া হবে।

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতুষ বিশ্বাস জানান, এখনো বিষয়টি তিনি অবগত নন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোহান/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]