খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টিপাত চলমান থাকায় এবং স্থাপনাটি ধাতব কাঠামোর হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দাহ্য পদার্থ বহনের জন্য ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিক বোতল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে মুখে মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তিকে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে জেলা শহরের সবুজবাগ এলাকা থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রনিকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
কলেজের নৈশ প্রহরী সেনময় ত্রিপুরা জানান, ঘটনার কিছু আগে দুই যুবক সাংগঠনিক কাজের কথা বলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের বিষয়টি চোখে পড়ে।
এদিকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনার জন্য নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. কায় কিসলু জানান, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর