নড়াইলে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ মারধরের জন্য জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম রানা সদর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, জুলাই মাস উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের মারধর করতে পারলে ফেসবুকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন পলাতক কয়েকজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন, সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয়, শাহাদাত হোসেন রায়হান, ইমন শিকদার, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন জমাদ্দার, মো. ইস্রাফিল, মো. সজীব চৌধুরী, এস কে আসলাম, আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস এবং জুবায়ের শেখ।
অভিযোগকারী আমিরুল ইসলাম রানা বলেন, জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থান বা বিদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, কিছুদিন আগে তার ওপর হামলার গুজবও ছড়ানো হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রতিকার না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস। তিনি বলেন, অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে তাদের কাউকেই তিনি চেনেন না এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গেও তার কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, কাউকে মারধরের জন্য অর্থ পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর