যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উত্তর-পূর্ব ইরানের গোলেস্তান প্রদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে মার্কিন হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সময়ে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি হয়েছে। এদিকে উভয় পক্ষই কঠোর ভাষায় একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের আক্কালা শহরের বাইরে অবস্থিত আক তেকেহ খান রেলসেতু লক্ষ্য করে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র রেললাইনে আঘাত হেনে বিস্ফোরিত হয়। তবে হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংগঠনটি এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে "কঠোর ও চূর্ণবিচূর্ণ জবাব" দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সর্বশেষ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে আবারও ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সামরিকভাবে যুদ্ধে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান যদি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা চালায়, তবে প্রতিটি হামলার জবাবে "২০ গুণ বেশি শক্তি" প্রয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান চুক্তিতে ফিরতে আগ্রহী হলেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে কুয়েত সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা (KUNA)। তবে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইরান ইস্যুতে চাপ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, এই সংঘাতের কারণে মার্কিন প্রাণহানি ঘটছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি কংগ্রেসকে ট্রাম্পকে অনুমোদনহীন সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, "আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতেই হবে।" পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের স্বার্থ বিবেচনায় পরিচালিত হবে, কোনো বিদেশি হুমকির ভিত্তিতে নয়।
সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।
সর্বশেষ খবর