• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩০ সেকেন্ড পূর্বে
কামরুজ্জামান রনি
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০৯ বিকাল

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরাকে শ্বাসনালী কেটে হত্যা: বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ইকোপার্কের চূড়ায় দুর্গম পাহাড়ের নিয়ে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে শ্বাসনালী কেটে হত্যার ঘটনায় পাঁচ মাসের মাথায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

সব মিলিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

নিহত জান্নাতুল নাইমা ইরার বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।

ইরার মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

আসামি বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় ইরার পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ইরার বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। তারই অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

গত ১ মার্চ সকালে শিশু ইরাকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান আসামি বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে যান।

সেইদিন ঘটনার একপর্যায়ে দিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ রক্তাক্ত অবস্থায় কান্না করে জঙ্গল থেকে বের হতে দেখেন শিশু কণ্যা ইরাকে । জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছালে।

এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ ইরা মারা যায়।

বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানিয়েছিল, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। শিশুটি এ ঘটনা লোকজনকে বলে দেবে বলে চিৎকার করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে ফেলে রেখে চলে আসে। পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরায় পাহাড়ের নেওয়ার ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ গঠন করা হয় ১৮ জুন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২১ জুন থেকে।

মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ে পর্যায়ে আসে।

নিহত ইরার মা, মামলার বাদী রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করবে, তাদের যেন একই পরিণতি হয়। আদালত যে বিচার করেছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট।

বাদীপক্ষের (ইরার) আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আমরা মনে করি, এই রায় ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের এই রায় আমাদের তদন্তের সঠিকতার স্বীকৃতি।।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]