বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মালয়েশিয়া সরকার। এখন থেকে ব্যক্তিগত সুপারিশ বা ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে কোনো বিদেশি শ্রমিকের কোটা অনুমোদন করা হবে না। পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS)-এর ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে।
গত সোমবার (৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির মানবসম্পদ উপমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান নতুন এ নীতিমালার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত তদবির বা বিশেষ সুপারিশের মাধ্যমে কোটা পাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ওয়ান-স্টপ সেন্টার সম্পূর্ণভাবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এফডব্লিউসিএমএসের সোর্স কোড ও সুপার অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও এখন মন্ত্রণালয়ের হাতে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে ৫৪৮টি কোম্পানি ২২ হাজার ৪৭৬টি বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন জমা দিয়েছে।
নতুন নীতিমালায় নিয়োগকর্তাদের জন্য স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এজন্য বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আগে মাইফিউচারজবস (MyFutureJobs) পোর্টালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং কর্মসংস্থান আইনের ৬০কে ধারা অনুযায়ী স্থানীয় কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলেই কেবল বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, নতুন বিদেশি শ্রমিকদের আগমনের পর তাদের সাময়িক আবাসনের জন্য একটি ট্রানজিট সেন্টার স্থাপনেরও অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমানো এবং নিয়োগকর্তারা দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা এই ট্রানজিট সেন্টারে অবস্থান করবেন।
তবে বিদেশি শ্রমিকের কোটা অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলেও, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় কর্মপরমিট বা ওয়ার্ক পাস ইস্যুর চূড়ান্ত ক্ষমতা আগের মতোই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) হাতেই থাকবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর