• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৮ সেকেন্ড পূর্বে
আবুবকর সম্পদ
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬, ০২:২৩ দুপুর

ফ্যাসিস্টের দোসর আইনুল হলেন সামাজিক বিজ্ঞানের ডিন, জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষোভ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

২৪-এর জুলাই বিপ্লবে যখন সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও গণহত্যামূলক দমনপীড়ন চলছিল, ঠিক সেই সংকটকালীন সময়ে গণভবনে গিয়ে খুনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন ও পরামর্শ দেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিতর্কিত শিক্ষক ও সাবেক নীল দল নেতা ড. আইনুল ইসলামকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।

নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত এই শিক্ষককে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় জবি ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ​বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট—যখন সারা দেশে ছাত্র আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার মরিয়া—তখন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণভবনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’-এর একাংশের নেতৃত্ব দিয়ে ড. আইনুল ইসলাম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান। উক্ত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে এবং তাদের ওপর গুলি চালানোর ব্যাপারেও তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই বৈঠকে জবির সাবেক উপাচার্য মীজানুর রহমান এবং সাদেকা হালিমও উপস্থিত ছিলেন। ​ড. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু ফ্যাসিবাদের তোষামোদিই নয়, অতীতেও একাধিক গুরুতর নৈতিক স্খলন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে: ​যৌন কেলেঙ্কারির ইতিহাস: ২০১০ সালের ২২ জুলাই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের এক সহকারী শিক্ষিকার সাথে নৈতিক স্খলন ও যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রক্টরের পদ থেকে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

​নথিপত্র গায়েবের চেষ্টা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক পর পরই, ১১ আগস্ট জবি ক্যাম্পাস থেকে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ফাইল গায়েব করার চেষ্টা চালান ড. আইনুল ইসলাম। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি টের পেয়ে হাতেনাতে তাঁর এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়। ​ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ফ্যাসিবাদী দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বড় বড় ঘোষণা দিলেও, বাস্তবে আইনুল ইসলামের মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ডিনের আসনে বসানোয় প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় অনেকেই একসময় আইনুল ইসলামের ছত্রছায়ায় চলতেন, যার ফলে অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জগন্নাথে তাঁদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ​এতোসব অপকর্ম ও ফ্যাসিবাদের তোষামোদি করার পরও ড. আইনুল ইসলামকে ডিন বানানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও আলটিমেটাম দিয়েছেন ক্যাম্পাসের শীর্ষ ছাত্রনেতারা।জবি ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ​" ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী কায়েম করে ও অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের উপর নির্যাতনের স্ট্রিম রোলার চালিয়েছে। ৩ আগস্ট যখন আমাদের ভাইদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন যারা গণভবনে গিয়ে খুনি হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার বুদ্ধি দিচ্ছিল, তারা সরাসরি অপরাধী।

প্রশাসন কোন স্বার্থে বা কার ইশারায় একজন যৌন কেলেঙ্কারি ও ফাইল গায়েবের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসালো, তা স্পষ্ট করতে হবে। ছাত্রদল ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে অতীতেও আপসহীন ছিল, এখনও আছে। আমরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।" জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ​"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রশাসন চেয়ারে বসে এখন খুনিদের দোসরদের শেল্টার দিচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ড. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নথিপত্র চুরির চেষ্টা ও অতীতের নৈতিক স্খলনের স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও তাকে পুরস্কৃত করা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সাথে বেইমানি। বর্তমান ভিসি মুখে বড় বড় কথা বললেও কাজে তার উল্টোটা দেখা যাচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে স্পষ্ট বলতে চাই,স্বৈরাচারের এই দোসরকে ডিন পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। প্রশাসন যদি টেন্ডারবাজি বা নিজেদের বলয় ভারী করার নোংরা রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকে, তবে ছাত্রসমাজ রাজপথেই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।" এছাড়া ​জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ​"যারা ৩ আগস্ট গণভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর কুরামর্শ দিয়েছিল, তারা শিক্ষক নামের কলঙ্ক।

৫ আগস্টের পর যারা ফাইল গায়েবের অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তাদের স্থান ডিনের চেয়ারে নয়, হওয়া উচিত ছিল কারাগারে। বর্তমান প্রশাসন একদিকে ফ্যাসিবাদের বিচারের কথা বলে, অন্যদিকে গোপনে আইনুল ইসলামদের মতো কুখ্যাত স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসিত করে দ্বিমুখী নীতি দেখাচ্ছে। আমরা জবি ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ঘোষণা করছি—ক্যাম্পাসে কোনো স্বৈরাচারের দালালদের রাজত্ব আর চলতে দেওয়া হবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে অবমূল্যায়ন করে এই পদায়ন বহাল রাখলে ক্যাম্পাসকে আবার রাজপথে উত্তাল করা হবে।"

​এক সময়ের দাপুটে নীল দল নেতা ও অসংখ্য বিতর্কে ঘেরা আইনুল ইসলামের এই পদায়ন এবং ছাত্রনেতাদের আলটিমেটামের মুখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকিয়ে আছেন, স্বৈরাচারের দোসরদের উচ্ছেদ করে ক্যাম্পাসকে কলঙ্কমুক্ত করতে প্রশাসন এখন কী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]