চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নারী সংগঠনের কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) শুরু হওয়া এ বিরোধের জেরে রোববার (১২ জুলাই) উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়ে কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। জামায়াতের দাবি, এটি ছিল ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম। তবে বিএনপির অভিযোগ, সেখানে গোপনে রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। যদিও ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অংশগ্রহণকারী নারীদের নিরাপদে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়। খবর পেয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথক কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তিন জামায়াত কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে 'জুলাই সনদ' নামে একটি ফেসবুক ফেক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পরে ওই পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে স্থানীয় শিবির নেতা সুমনকে বিএনপির কিছু কর্মী মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ স্থান ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিএনপির দাবি, মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান নয় এবং অনুমতি ছাড়া সেখানে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, নিয়ম মেনেই কুরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল এবং তাদের বৈধ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই দলের পৃথক মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর