স্বাধীনতার পর এই প্রথম উন্নয়নের মুখ দেখতে যাচ্ছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বউবাজার থেকে খুরতা পর্যন্ত সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই আনন্দের জায়গা এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। ‘হেরিং বোন বন্ড’ (এইচবিবি) প্রকল্পের আওতায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ইটের সলিং করার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে ও ভেঙে পড়ছে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বউবাজার হতে খুরতা পর্যন্ত এই রাস্তাটির উন্নয়ন কাজের জন্য হেরিং বোন বন্ড প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চরম গাফিলতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেয়। সলিংয়ের নিয়ম তোয়াক্কা না করে ইটগুলো হাফ থেকে এক ও দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা ফাঁকা করে বিছানো হয়েছে। এক নম্বর ইটের জায়গায় দেদারসে মেশানো হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের দুই নম্বর ইট। রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন গাছের গোড়ায় নিয়ম মেনে ইট না বিছিয়ে সম্পূর্ণ এলোমেলোভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই বিছানো ইটের ফাঁক থেকে বালু ধুয়ে চলে যাচ্ছে এবং পুরো রাস্তাটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আব্দুস সামাদ ও খোকন মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের এই কাঁচা রাস্তায় প্রথম ইটের ছোঁয়া লাগছিল। ভেবেছিলাম কষ্ট দূর হবে। কিন্তু যে ফাঁকা ফাঁকা করে আর দুই নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হয়েছে, তাতে এই রাস্তা ছয় মাসও টিকবে কি না সন্দেহ আছে। অনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকার আরেক বাসিন্দা ইউনুছ আলী বলেন, সরকারি এতগুলো টাকা এভাবে জলে যাচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই। অবিলম্বে এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ধুনট উপজেলার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’এর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে একাধিকবার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তাদের নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদারের এমন সটকে পড়ার ঘটনায় এলাকায় আরও বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই গ্রামীণ সড়কটি টেকসই করার জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছিল। অনিয়মের ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা পিআইও অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুযায়ী কাজ না করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ রাস্তার কাজ বন্ধ রেখে, বুয়েট বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী দ্বারা তদন্ত করে পুনরায় মানসম্মতভাবে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর