তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সফলতার পথে নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা আসবে, তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তিনি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। নতুন উদ্যোক্তাদেরও একইভাবে দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের পথচলায় সহযোগিতা ও সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করবে,” বলেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশু-কিশোর ও তরুণদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মেধা ও দক্ষতা দেখে তিনি আশাবাদী যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই আয়োজন তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি উন্মুক্ত সংলাপের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মেন্টরিং, প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন ও বিনিয়োগ সংযোগ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সফল উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্বোধন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।
সরকার ইতোমধ্যে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে। অনুষ্ঠানে দেশের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর