ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১৪ জন দালালকে আটক করেছে র্যাব-১৪। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্তদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ কোম্পানির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান। আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. আতিকুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ রফিক আলী (৪৫), ইমরান বাদশা (৩০), আসাদ (৪৭), আহসান উল্লাহ (৩৭), মনির (৪৫), টুটুল আমিন (৪০), আনিস হোসেন (৪০), মো. রানা (৩০), মো. সোহাগ মিয়া (৩১), মনির হোসেন (৩৭), শিলা আক্তার (৫১), জীবন হোসেন (২৮) ও আক্তার হোসেন (৩১)। মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করতেন। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন। সেখানে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। আটক দালালদের অনেকেই একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাই দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
দালালচক্রের প্রতারণার শিকার ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, ছেলের পায়ে তারকাঁটা লাগার পর চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতাল চত্বরে দালালদের খপ্পরে পড়ে তারা আমাকে বলে হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হবে না। পরে বিভিন্ন কথা বলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে অপারেশনের কথা বলে ধাপে ধাপে আমার কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা কৌশলে রোগীদের সরকারি হাসপাতালের বাইরে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে প্রতারণা করছে। এতে একদিকে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশে দালালচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি দালালচক্রের তৎপরতা সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর