১৫ বছর আগে সংঘটিত এক শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রধান তিন আসামি আনিস রানা, সাইফুল ইসলাম ও দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর তিন আসামি আনিছুর, খতিবুর খতু ও লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আদালত রায়ে আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার চারদিন পর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১৫ বছর পর এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয় রোববার।
রায়ের সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইরজীবি বদিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, "দীর্ঘদিন পরে হলেও এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে। বিজ্ঞ আদালত আসামিদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনজনকে আমৃত্যু এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ পুরোপুরি সন্তুষ্ট। এই রায় সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে। আমরা আশা করি, পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করা হবে।"
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর