কুমিল্লা জেলা দিন দিন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। বৃহত্তর এ জেলায় প্রতিদিনই চুরি, ডাকাতি, খুন, নারী নির্যাতন, ছিনতাই ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয় নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বারবার আলোচনা হলেও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ তথ্য উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে অধিকাংশ অপরাধের হার বেড়েছে। জুলাইয়ে খুনের মামলা ১০টি হলেও আগস্টে তা বেড়ে ১১টিতে দাঁড়িয়েছে। চুরির মামলা ৩১টি থেকে বেড়ে ৩৫টি, মাদক মামলা ২১১টি থেকে বেড়ে ২৮১টি এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা তিনটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে পৌঁছেছে। এছাড়া অপমৃত্যুর মামলা ৪৭টি থেকে বেড়ে ৬১টি হয়েছে। তবে একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং দস্যুতার মতো কিছু অপরাধের হার কিছুটা কমেছে।
সভায় জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের সুযোগে ট্রান্সফরমার চুরি, রেলস্টেশনে ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। এছাড়া বাজারে পণ্যের মূল্যতালিকা নিশ্চিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ১০ বিজিবির অধিনায়ক মীর আলী এজাজ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফাসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর