পারিবারিক বিরোধের জেরে বগুড়ার শেরপুরে ধানখেতে ঘাসনাশক স্প্রে, ২৫ শতকের ফসল ছাই বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি রোপণ করা আমন ধানখেতে ঘাসনাশক (বিষ) ছিটিয়ে ফসল ধ্বংসের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এতে ২৫ শতক জমির উঠতি ধান পুড়ে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক পানিসাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেনের পরিবার। ২২ জুলাই দুপুরে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এর আগে গত ১৯ জুলাই (রোববার) ভোরে শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসাড়া গ্রামে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানিসাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেনের সঙ্গে পানিসাড়া মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই দিন ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিপক্ষ শাহবন্দেগী ইউনিয়নের উচরং গ্রামের লিটন (৩৮), মাকেজ উদ্দিন (৫০) ও আনজুয়ারা বেগম (৪৫)-সহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত গোপনে তাঁর ধানখেতে ঘাসনাশক বিষ ছিটায়। কৃষক আবুল হোসেনের স্বজনেরা ঘটনাটি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এর পরদিন থেকেই পুরো খেতের ধানগাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে পুরো ২৫ শতক জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আমরা বিগত ৬১ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। প্রতিপক্ষরা জমিটির মালিকানা দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছ। কিন্তু মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এভাবে রাতের আঁধারে শত্রুতাবশত খেতের ফসল বিষ দিয়ে মেরে ফেলা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমি এর বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই। এলাকাবাসী জানান, পানিসাড়া মৌজার সাবেক ১০৭৩ ও ১০৮৭ দাগের মোট ১৩২ শতক জমি নিয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও সামাজিক বিরোধ চলছে। বর্তমান দখলদার আবুল হোসেনের দাবি, তিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে জমিটি চাষাবাদ করছেন। আইনগত সমাধানের লক্ষ্যে বগুড়া জেলা আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই খেতের উঠতি ফসল ধ্বংস করায় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পক্ষ লিটন, মাকেজ উদ্দিন ও আনজুয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শেরপুর থানা আফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনউদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর