ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের যুবক মারুফ মাতুব্বর (১৯)-এর মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পাশের জেলা মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ফুলতলা কাশেমপুর নয়াকান্দা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মারুফ মাতুব্বর ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মনিরা হায়দার ও হায়দার মাতুব্বরের ছোট ছেলে। তার এই অকাল মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনাটি রহস্যজনক এবং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারুফের সঙ্গে মক্রমপুট্টি এলাকার এক তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ওই তরুণীর পারিবারিকভাবে পাশের রাজৈর উপজেলার ফুলতলা কাশেমপুর নয়াকান্দা গ্রামের কামরুজ্জামান শরীফের সঙ্গে বিবাহ হয়।
পরিবারের দাবি, ওই তরুণীর স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর মারুফের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় মরদেহ ঘরের ভেতরে পড়ে থাকলেও বিষয়টি স্বজন বা স্থানীয়দের জানানো হয়নি। এমনকি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মারুফ একজন শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের যুবক ছিলেন। কিছুদিন আগেই তিনি লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তার এমন অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যু পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। ঘটনাটি নিয়ে চৌকিঘাটা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর আসল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সুধীজন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর