ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার কক্ষে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ডাইলেশন এন্ড কিউরেটেস (ডিএনসি) করার অভিযোগ উঠেছে পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে। এদিকে ডিএনসি করার পর রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে টাকা দাবি করার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) থেকে ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ভুক্তভোগী রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই নগরকান্দা উপজেলার ওই নারী দুই মাসের সন্তানের শারীরিক জটিলতার কারণে গর্ভপাতের জন্য ভাঙ্গা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের কাছে যান। এসময় ডিএনসির জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতালটির একটি কক্ষে ডিএনসি করেন জাহানারা বেগম। ডিএনসি করার ৩ দিন পর হিরামনির অবস্থা খারাপ হওয়ায় পুনরায় তার কাছে গেলে আবারো ডিএনসি করতে হবে বলে জানান জাহানারা৷ এজন্য তার কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করেন এবং স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
কিন্তু ওই রোগীর অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার কারণে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অভিযোগ রয়েছে সরকারি হাসপাতালে কোনো রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিধান না থাকলেও জাহানারা অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন। এছাড়াও একজন পরিদর্শিকার ডিএনসি করার কোনো বিধানও নেই। তারপরও টাকার লোভে জাহানারা বেগম এ কাজ করেছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি। ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি অসুস্থ হওয়ার পর জাহানারা ম্যাডামের কাছে যাই। তিনি টাকা নিয়ে হাসপাতালের কক্ষেই আমার ডিএনসি করেন। পরে আবার অসুস্থ হয়ে গেলে তিনি বলেন, আবার ডিএনসি করতে হবে। তখন তিনি আবার টাকা নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তির কথা বলেন।
রোগীর স্বামী বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। আমার স্ত্রী সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার জাহানারা বেগমের কাছে গেলে প্রথমে তিনি দশ হাজার টাকা চান। পরে বিনয়ের সঙ্গে বললে ২৫০০ টাকায় কাজ করে দেন এবং বলেন ভেতরে কিছু অংশ থেকে যেতে পারে, পরে আবার আসতে হবে। পরে গেলে আবারো এক হাজার টাকা নিয়ে একটি ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার কথা বলেন, কিন্তু আমরা এতে রাজি না হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হই। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহানারা বেগম বলেন, আমি তার কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। ডিএনসি করার পর তিনি নিজের ইচ্ছাতেই অন্যত্র চলে গেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত এমআর করা যায়। কিন্তু ডিএনসি করার কোনো নিয়ম নেই। আর টাকা নেওয়ারতো কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহাগ মিয়া বলেন, ডিএনসির পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর