রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার কোনো চমক নয়, বরং বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা এগিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজনকে বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে, যিনি রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত। এ কারণে সাবেক আমলা কিংবা অরাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবর্তে বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব থেকেই একজনকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দল এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন অনুসরণ করে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকার বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ কার্যকর হওয়ায় আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই এখনই বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই; আগামী নিয়মিত সংসদ অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
এদিকে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনই মন্তব্য করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেনি। আইনের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও অন্যান্য সাংবিধানিক সুবিধার বিষয়ও সরকার যাচাই-বাছাই করছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন, তবে স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন। ইতোমধ্যে তাঁর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বঙ্গভবন ও সংসদ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার সকালে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পরে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও জিয়ারত করার কর্মসূচি পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা নাম ঘুরে বেড়ালেও, সরকার ও বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য কোনো নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের একজনের বঙ্গভবনে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে জোরালো।
সর্বশেষ খবর
এক্সক্লুসিভ এর সর্বশেষ খবর