ভারত ও নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারী বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ ভারত ও নেপালে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রাণহানির পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে মৃতের সংখ্যা ৮১-তে পৌঁছেছে। নেপালেও আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ওই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টি ও ঝড়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি।
বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় রাজ্যটিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বিভিন্ন নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানাং এলাকায় তুষারধসে ১০ শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
বন্যার পানিতে নেপালের একটি ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ চারটি এলাকায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার কারণে ব্যাংকক, ননথাবুরি, পাথুম থানি ও সামুত প্রাকান প্রদেশে এই ছুটি কার্যকর হয়েছে। জরুরি সরকারি সেবা অবশ্য চালু রাখা হয়েছে।
থাইল্যান্ডে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪১টি প্রদেশ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে এবং পাঁচ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারি ও সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দেশটিতে বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর