মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের বোমা হামলা স্থগিত করার পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা চাওয়ার খবরও ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার জন্য ইরান কোনো অনুরোধ করেনি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
বাঘাই বলেন, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার আবেদন করেছে—এমন খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি আমাদের নীতির সঙ্গে যায় না।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ১৩ রাতের বিমান হামলার পর গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প সামরিক অভিযান স্থগিত করেন। জবাবে ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও পাল্টা হামলা স্থগিত রাখবে।
রয়টার্স আরও জানায়, একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডাররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গোলাবারুদের মজুত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরই হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করা ছয়টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য তাদের নির্ধারিত পথই বৈধ। অন্য পথগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেগুলো ব্যবহার করা যাবে না। তেহরানের দাবি, প্রণালির নিজস্ব উপকূলঘেঁষা নৌপথ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে হামলা বন্ধ হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারের নিচে নেমে আসে। এর আগে গত সপ্তাহে দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইরাকের নিরাপত্তা সূত্র বলছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলে ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও নৌপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি তেহরান সফর করেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর