রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নারীঘটিত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাকসু নেতাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেছেন, ‘আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি।’
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় কয়েক দফা উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘অনেকে প্রচার করছে আমরা মার খেয়েছি বা আহত হয়েছি। কিন্তু আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি। প্রশাসনের হাতে আইন তুলে দিয়ে কোনো লাভ হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রী একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রক্টর দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থী আনাসকে রাকসুর নেতারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন। পরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
এর কিছুক্ষণ পর আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে গেলে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাকসুর দাবি, এ সময় জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে ঢুকে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলকে মারধর করেন আম্মারসহ কয়েকজন। বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আনাস দাবি করেন, তাকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে প্রথমে প্রক্টর দপ্তরে এবং পরে গ্রন্থাগারেও মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বন্ধুদের সঙ্গে ছবি থাকলেও তিনি কখনো সংগঠনটির কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত ছিল না। তবে হামলার ভিডিওতে শিবির নেতাদের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে ঘটনা তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর