• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২ সেকেন্ড পূর্বে
সোহাগ মাতুব্বর
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ রাত

ফরিদপুরে খাল খনন শেষে ১ কোটি টাকা ফেরত দিলেন দুই ইউএনও

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয়ের প্রবণতার বিপরীতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে সব ব্যয় মিটিয়েও উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৮০ হাজার ৫৩৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান এবং সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ শাওন।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় মোট চারটি খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই প্রকল্পে দুই উপজেলায় মোট ২২ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

দুই উপজেলার চারটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৯ টাকা। এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৫ টাকা। প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করে ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সদরপুর উপজেলায় বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮০৪ টাকা। সেখান থেকে কাজ শেষে উদ্বৃত্ত ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলায় ঘারুয়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ হালন ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে খারদিয়া হয়ে শাহজাহান শেখের বাড়ি পর্যন্ত এবং সেখান থেকে কুমার নদী পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। এছাড়া মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত আরও ৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলাটিতে ১৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হয়।

সদরপুর উপজেলায় লোহারটেক ব্রিজ থেকে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং দড়িকৃষ্ণপুর কাটাখাল ব্রিজ থেকে ভুবনেশ্বর নদীমুখী প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে উপজেলাটিতে মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অপচয় ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ থাকলেও ফরিদপুরের এই দুই উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রের। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে তদারকি, সঠিক পরিমাপ, প্রকৃত শ্রমিকের মাধ্যমে কাজ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত রেখে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করেন। কাজের গুণগত মান পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা কাজের মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন।

এছাড়া গত ১৬ মার্চ ভাঙ্গা উপজেলায় দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের প্রকল্প সদস্য জুয়েল বলেন, “ইউএনও স্যার নিয়মিত প্রকল্প এলাকায় এসে কাজ তদারকি করেছেন। কোথাও যেন অনিয়ম না হয়, সেদিকে তিনি সবসময় নজর রেখেছেন।”

ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনসুর বলেন, “এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি থেকে শুরু করে সব ধরনের বিল যথাযথ নিয়মে পরিশোধ করা হয়েছে।”

সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকার প্রকল্প সদস্য জহুরুল মুন্সি বলেন, “অন্যান্য অনেক জায়গার তুলনায় এখানে অনেক ভালো কাজ হয়েছে। বর্তমান ইউএনওর আন্তরিকতা ও কঠোর নজরদারির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।”

চর বিষ্ণুপুর এলাকার প্রকল্প সদস্য বাচ্চু কাজী বলেন, “খালের কাজ যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি কোনো ধরনের নয়-ছয় হয়নি। তাই প্রকল্পের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।”

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন কাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করা। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা হয়। আমরা শুরু থেকেই সেদিকে কঠোর নজরদারি করেছি।”

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ শাওন বলেন, “এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। আমাদের উপজেলার দুটি খাল দেশের প্রথম পর্যায়ে উদ্বোধন হওয়া ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে ছিল। আমরা কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ দিইনি। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক টাকাও ব্যয় না করে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন কাজের গুণগত মান বজায় থাকে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের অর্থও সাশ্রয় হয়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]