প্রায় ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী মাসের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত হবে দুই ম্যাচের এই সিরিজ। সফরকে সামনে রেখে শুক্রবার দল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে সিরিজ নিয়ে নিজেদের লক্ষ্য ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুধু ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে স্বাগতিকদের সম্মান অর্জনই দলের প্রধান উদ্দেশ্য।
‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে সেখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতেও তারা আমাদের টেস্ট সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানাবে,’ বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তবে জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসছেন না শান্ত। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশ জয় পাওয়ার উদ্দেশ্যে মাঠে নামে। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্যই খেলি। কিন্তু সেখানে কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং তাদের কতটা কঠিন সময় দিতে পারি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা দুটি ভালো ম্যাচ খেলতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ তৈরি হবে,’ যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ খুবই সীমিত। ২০০৩ সালে প্রথম ও একমাত্রবারের মতো দেশটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর আবার সেই সুযোগ এসেছে। এই সময়ে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের মতো তারকা ক্রিকেটারদের পুরো ক্যারিয়ার শেষ হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি তারা।
এবার সেই বিরল অভিজ্ঞতার অংশ হতে যাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্বও দেবেন তিনি। এমন সুযোগকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের বলে মনে করছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
শান্ত বলেন, ‘আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে ভালো ক্রিকেট খেলে তাদের সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা তাদের টাফ টাইম দিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ আসবে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ থেকে আর্থিক লাভ কম হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া এবারও প্রচলিত বড় ভেন্যুগুলোতে ম্যাচ আয়োজন করেনি। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট হবে ডারউইনে, যেখানে ২০০৩ সালেও বাংলাদেশ খেলেছিল। দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকাইয়ে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন ভেন্যু।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট জাতির বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখানোই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ফল যাই হোক, ভালো ক্রিকেট উপহার দিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর দুই যুগ অপেক্ষা না করে অস্ট্রেলিয়া সফরের সুযোগ আসে—সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর