হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের হালিমা বেগম (২১) বিয়ের চার মাসের মধ্যে যৌতুকের জন্য প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবতীর বাবার লোকজন লাশ আনতে স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামীর পক্ষের লোকজন হামলা করে ইউপি সদস্যসহ পাঁচজনকে আহত করেছেন। এসময় সন্দেহভাজন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে নবীগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার মধ্যে তোলপাড় চলছে।
এদিকে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল বিরাজ করছে। হালিমার পরিবারের জিম্মায় লাশ ময়নাতদন্ত করে নবীগঞ্জের বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। নিহত হালিমা জগন্নাথপুর উপজেলার হাড়গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সুনু মিয়ার স্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যায় হালিমার লাশ নবীগঞ্জের পিটুয়া গ্রামে তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়।
জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চার মাস আগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পিটুয়া আদর্শ গ্রামের আছাব মিয়ার মেয়ে হালিমা খাতুনের সঙ্গে সুনু মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দশ দিন পর সুনু মিয়া মালয়েশিয়া চলে যান।
স্বামীর পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলে হালিমার শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান তারা। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। কিন্তু হালিমা বেগমের বাবা ও মা জানান, তাদের মেয়ে হালিমা মৃত্যুর ৩০ মিনিট আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ৩০ মিনিট পরে স্বামীর বাড়ির লোকজন মোবাইল করে বলেন, মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা খবর পেয়ে গেলে স্বামীর বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছেন। একজনকে আটক করা হলে তাকেও তার আত্মীয়স্বজন জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা আসাব মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য হালিমাকে নির্যাতন করতেন। স্বামী বিদেশে থাকলেও তার দেবর-ননদরা তাকে মারপিট করতেন। তার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
হালিমার মা নাজমা বেগম জানান, তার মেয়েকে স্বামীর বাড়ির লোকজন হত্যা করে লাশ খাটের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। তার মেয়ে হালিমা মৃত্যুর ৩০ মিনিট আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ৩০ মিনিট পরে স্বামীর বাড়ির লোকজন মোবাইল করে বলেন, মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা খবর পেয়ে গেলে স্বামীর বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছেন। একজনকে আটক করা হলে তাকেও তার আত্মীয়স্বজন জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে, হালিমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করলে দুই পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একজন আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে দাবি করে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ইউপি সদস্য সাহেল আহমদ জানান, আমরা খবর পেয়ে মেয়ের আত্মীয়স্বজন ও আমাদের ইউপির সাবেক চেয়ারম্যানসহ ঘটনাস্থলে আসি। এসময় পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হালিমার দেবর ফজল মিয়াকে আটক করলে তার আত্মীয়স্বজনরা হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তারা আমাদের লোকের ওপর হামলা করে এতে পাঁচজন আহত হয়।
আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম, আমাদের ওপর হঠাৎ করে আক্রমণ করা হয়েছে। আমাদের ওপর হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আমরা লাশ আনার জন্য গিয়েছি আর পুলিশকে বলেছি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এমনটা করেছেন।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দিন বলেন, মেয়ের পরিবারের লোকজন এসে ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ পুলিশকে হস্তান্তরে সহযোগিতা করা হয়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের হামলা কথা অস্বীকার করেন। মারামারি হয়েছে সেই ভিডিও আমরা দেখেছি। হালিমার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার আত্মীয়স্বজন নিয়ে গেছেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর