চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাতক রায়হানের সহযোগীসহ পাঁচ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি অস্ত্র ও তাজা গুলি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় প্রকাশ্য গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদের হত্যাকারীরাও রয়েছেন৷
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, পৃথক তিনটি অভিযানে আলোচিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি ও একটি বড় ছোরা।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) এক প্রেসব্রিফিং এ তিনি জানান, জেলা ডিবি পুলিশ মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার দুই আসামি দিদার ও আফসারকে গ্রেফতার করে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি জরে উদ্ধার করে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
এছাড়া হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে এবং তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এলজি ও বড় ছোরা উদ্ধার করে।
সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান এসপি মাসুদ আলম।
জেলা পুলিশের সূত্র বিডি২৪লাইভ কে বলছে, ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠির বড় একাধিক বাহিনীর উপ গ্রুপ গুলোকে ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ৷ সন্ত্রাসীরা এখন নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে পালাতে শুধু করেছে৷ তবে জেলা পুলিশের একাধিক টিম ও বিভিন্ন বাহিনীর চৌকশ টিম এদের গ্রেপ্তারে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷ যার ধারাবাহিকতায় জেলার ভিভিন্ন স্থান থেকে এসব সন্ত্রাসীদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে পুলিশ৷
শুধু সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারই নয় এসব বাহিনীর হয়ে অর্থ লেনদেন ও অর্থ পাচারে সহায়তাকারীদের বিষয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেলা পুলিশের হাতে এসেছে৷ এদের বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ৷ তাদের আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে৷
এদিকে জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিডি২৪লাইভ কে জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে পুলিশের অভিযানের মুখে নোয়াখালী থেকে পালিয়ে যাওয়া বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ ক্যাডার রায়হারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে৷ তাকে ধরতে চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারী অব্যাহত রেখেছে পুলিশ৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, "রায়হান বর্তমান কোন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করছে না বলে আমরা ধারণা করছি৷ ফলে তাকে ভার্চ্যুয়ালি ট্রেকিং করাটা বেশ জটিল। তবে আমাদের বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে"।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর