মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণায় বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবি সাম্য শাহের সভাপতিত্বে সংগঠনের ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ক্যাপ্টেন রিদওয়ান সিকদার।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তারুণ্য। এখনও দেশের মানুষ তরুণদের দিকেই আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘোষণাপত্রে ঘোষিত আদর্শ ও অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগঠকদের কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় থাকলে এ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক স্ফুরণ ঘটাতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে তিনি তাঁর ক্ষুদ্র পরিসর থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।
গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতা উপভোগের বিষয় নয়; বরং ক্ষমতা জনগণের সেবা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব পালনের মাধ্যম হওয়া উচিত।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, একটি পক্ষ গালাগালি ও বিদ্বেষকে রাজনীতির অংশে পরিণত করতে চায়, যা তরুণদের বিপথগামী করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠকদের এ ধরনের নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে তরুণদের বের করে এনে আলোর পথ দেখাতে হবে এবং ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গোষ্ঠীটি মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহসিন রশিদ বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের আত্মপ্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং এর সফলতা কামনা করেন।
শ্রমিক নেতা শাহ আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শত শত শ্রমিক জীবন উৎসর্গ করলেও তাঁদের যথাযথভাবে স্মরণ করা হয় না। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর শ্রমিক ও কৃষকদের অবদান অস্বীকার করার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের আত্মত্যাগ ও ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সার্বভৌমত্ব আন্দোলনের সংগঠক শামীম রেজা বলেন, যুগে যুগে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের ব্যক্তিগত মতামতই জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সময়ের দাবি হলো এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যা ব্যক্তি নয়, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এখনও বিদ্যমান। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সকলের অংশগ্রহণে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; বরং গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। এতে মুহাম্মদ উল্লাহ মধুকে সম্পাদক এবং সাম্য শাহকে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর