মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মব-এর নাটক সাজিয়ে ব্যবসায়ী সোহেলের উপর স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রতন বাহিনীর হামলা ও ভূয়া-মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগীর পরিবার সহ স্ত্রী তারিন আক্তার।
পশ্চিম নন্দীপাড়ায় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সোহেলের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী তারিন আক্তার। ‘মব নাটক’ সাজিয়ে তার স্বামীকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তারিন আক্তার দাবি করেন, গত ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় বাসার সামনে অবস্থানকালে তার স্বামী খোরশেদ আলম সোহেলের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের অন্যতম সন্ত্রাসীরা হলেন, স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রতন, খোকন, মাসুম, কাউসার, হাবিব, রাফিসহ আরও ২/৩ জন। তারা লোহার রড, পাইপ, ইট, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার স্বামীর উপর হামলা চালায়। অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। একপর্যায়ে আমার স্বামী মাটিতে পড়ে যায়। ওই সময় তিনি ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা ১ টি পিস্তল ও ১ টি চাকু সেখানে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় মুগদা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারিন আক্তার দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের ফেলে রাখা অস্ত্র আমার স্বামীর নয়। এর আগে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজ তার স্বামীর ইট-বালু সরবরাহের কাজ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে ৪/৫ টি মামলা দিয়ে দেয়। র্যাব ও ডিবিকে দিয়ে তার স্বামীকে গ্রেফতারও করায়। কারাবন্দী থাকার পর তার স্বামী ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছিল। সে তার পৈত্রিক ব্যবসা করছিল। এটাই সন্ত্রাসীরা মেনে নিতে পারেনি। অভিযুক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। অবৈধ দাবি না মানায় তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা এবং পরে ‘মবের নাটক সাজিয়ে’ হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, হামলার পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ফুটেজ সংরক্ষণ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আসামীরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি নন্দীপাড়ার এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, খিলগাঁওয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর