বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে তাকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছে দলটি বলে জানা গেছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসছেন, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এর আগে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের স্থায়ী কমিটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মির্জা ফখরুলের বরাত দিয়ে জানান, এ বিষয়ে মহাসচিব নিজে কিছু জানেন না। দল থেকেও তাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে রিজভী
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাকে বিএনপির মহাসচিবসহ দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে রিজভীকে এ পদের জন্য এগিয়ে রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে রিজভী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়ে কাজ করছেন। তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।
অন্য নেতাদের নামও আলোচনায় ছিল
সরকার গঠনের আগে বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও ছিল। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় তারা সরকারি কাজে ব্যস্ত। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় রিজভীর নাম আবারও সামনে এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতার মতে, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রিজভীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তাকে মহাসচিব পদের জন্য এগিয়ে রাখছে।
তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন এবং রিজভীকে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব করার বিষয়—কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর