রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে বিএনপি সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এস এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিএনপি এখনও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ সংকটের মধ্যেই ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটেে প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন। এ সময় জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। সিইসি গ্রহণ করেছেন। আমাদের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ। ফরমে যা চেয়েছে সুনিপুনভাবে উল্লেখ করে জমা দিয়েছি। আশাকরছি আসাদের প্রাররথী বৈধ হবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সরকার এবং সংসদের মেজরিটি থাকলে মেজরিটি ও টোটাল মেজরিটি থাকলে সাধারণত সরকারি দলেরই একক প্রার্থী থাকে। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। একটি মাত্র ইতিহাস বা রেকর্ড আছে ১৯৯১ সালের যখন সংসদের মেজরিটি ছিল না কারো এককভাবে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে ১৪২ জন সম্ভবত বিএনপির সংসদ সদস্য ছিল পরে নারী আসন যোগ হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে যে এককভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিজয়ী করার মতো সংসদ সদস্য বা ভোটার বিএনপির ছিল না। সেই সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদে বিরোধী দল ছিল। তারা একজন প্রার্থী দিয়েছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী যার নাম। উনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থী জামাতসহ আরো অন্যান্য ওনাদের সমর্থন যারা করেছেন। সেই সংসদ সদস্যরা আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিলেন। এরপর থেকে আর কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো প্রার্থী হয়নি এই পদ।
তিনি বলেন, এইবার আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১১ দলীয় বৈঠকে। আমরা ১১ দলীয় বৈঠক করে শীর্ষ পর্যায়ের সেখান থেকে ডক্টর কর্ণেল অলি আহমদকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছি। দুটো প্রশ্ন আপনাদের পক্ষ থেকে আগেও এসেছিল এখনও জাতির কাছে আলোচিত প্রশ্ন। একটা হলো আপনাদের তো মেজরিটি নেই তাইলে আপনারা কেন এখানে প্রার্থীর মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা খুব শার্পলি এবং ক্লিয়ারলি বলেছি যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা আমরা সৃষ্টি করতে চাই। ৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজরিটি সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে এখানে। তা আমরা এখানে জিতবো কি হারবো এটা নয় আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। নাম্বার টু হচ্ছে এমন একজন প্রার্থীকে আমরা এখানে নমিনেশন দিয়েছি যিনি জাতীয়ভাবে সমালোচনা বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং দেশের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি তিনবার মন্ত্রী ছিলেন ছয়বার এমপি ছিলেন। উনি পিএইচডি হোল্ডার উচ্চ ডিগ্রিধারী এবং দেশের জন্য অনেক অবদান তিনি রেখে গেছেন রাজনীতি আসার পর থেকে দীর্ঘ সময়। একসময়ে বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার ছিলেন আবার আলাদা দল করেছেন এখন আবার আমাদের সাথে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে গণতন্ত্র চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটা বেরিয়ার তৈরি করেছে। সেটা হচ্ছে আর্টিকেল সেভেন্টি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কনস্টিটিউশনে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে যেটা নিয়ে আমরা ঐক্যমত। কমিশনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে তার মতামত জাতির স্বার্থে জনগণের স্বার্থে দেশের স্বার্থে রাখতে পারে সে ডোরটা ওপেন করা। সেখানে বিএনপিসহ যারা ঐক্যমত কমিটিতে ছিলেন আমরা তিনদিন প্রায় আলোচনা করার পর সবাই মিলে একমত হয়েছি যে আর্টিকেল সেভেন্টি এখানে নো কনফিডেন্স অনাস্থা ভোট এবং অর্থবিল ছাড়া আর সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যগণ স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। ভোট দিতে পারবেন। এটাই আমরা সবাই চেয়েছি। তো দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য গণভোটে এটা পাস হবার পরেও ১২ই ফেব্রুয়ারি বিএনপির একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারার কারণে গণতন্ত্রকে আবার সেই জনগণের অধিকারের জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে ওনাদের গড়িমসির কারণে এই সংস্কারটা ওনারা করছেন না বিশেষ করে গণভোটের যে রায় বাস্তবায়ন করছেন না। গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হতো তাহলে আজকে আমরা আশা করতাম কর্নেল অলি সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে উনি একজন গ্রহণযোগ্য যোগ্য প্রার্থী।
তিনি আরো বলেন, আবার শুনতেছি বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছেন এখনো কাকে প্রার্থী দেবেন আমরা বা জাতি জানতে পারি নাই। কারণ ওনাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। এই যে দৈন্যতার জায়গায় যোগ্য প্রার্থী দিতে না পারা সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে কর্নেল অলি সাহেবের যোগ্য উনি সবার সামনে জাতির সামনে এসেছেন। আর একটা বিষয় আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হল একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এটা অতীতে রেকর্ড আমাদের জানা নাই। তো এই কাজটি ওনারা করছেন তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কিভাবে দেখেন আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র নাইলে আমি স্বৈরতন্ত্র।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর