বগুড়ার শেরপুরে গাছ কাটতে গিয়ে পরিযায়ী শামুকখোল পাখির ছানা হত্যা ও ডিম ধ্বংস করার অভিযোগে গাছের মালিক আজাহার আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) শেরপুর বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শেরপুর থানায় এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মরহুম হায়েদার আলীর ১৬ শতক জমির বিভিন্ন গাছে ২০১৪ সাল থেকে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়। জমিটিতে থাকা ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পিতরাজ, জলপাই ও বাঁশঝাড় সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে পাখিরা কলোনি গড়ে তোলে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫০০টি গাছে অন্তত দুই হাজার শামুকখোল সহ ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখি বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুমে ডিম ফুটে বাচ্চা বড় হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাখিরা বাসা ছাড়তে শুরু করে। তবে সম্প্রতি জমিটির বর্তমান মালিক হায়েদ আলীর ছেলে আজাহার আলী ও তার অন্য ওয়ারিশরা কাঠ ব্যবসায়ী চাঁন মিয়ার কাছে সাতটি বড় গাছ বিক্রি করে দেন। গত ৮ আগস্ট সকাল থেকে করাত দিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু হলে মগডাল থেকে পাখির শতাধিক বাসা মাটিতে পড়ে ডিম ভেঙে যায় এবং বহু ছানা মারা যায়। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে এলে ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার বাদী হয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজাহার আলী কথা বলতে রাজি না হলেও তার ভগিনীপতি বাবলু মিয়া জানান, নতুন ঘর নির্মাণের অর্থের প্রয়োজনে তারা গাছগুলো বিক্রি করেছিলেন। তবে ঠিক কতগুলো পাখির ছানা মারা গেছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার’ সভাপতি সোহাগ রায় সাগর বলেন, এভাবে গাছ কাটায় পুরো পাখি কলোনিটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। কলোনিটি রক্ষায় বন বিভাগকে বারবার আবেদন জানানো হলেও কর্মকর্তারা কেবল পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করেন, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেন না। এছাড়াও গাছের মালিকের গাছের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রহমান জানান, পাখি কলোনির জন্য জমির মালিককে সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধি না থাকলেও পাখি থাকা অবস্থায় গাছ কেটে আবাসস্থল ধ্বংস ও পাখি হত্যার অপরাধে শাস্তির স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
বগুড়ার সামাজিক বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক মতলুবুর রহমান জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী শামুকখোল পাখির ছানা হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে জমির মালিককে অভিযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। গাছের মালিক তিনি হলেও পাখির ছানা মেরে ফেলার অধিকার তার নেই। সে কারণেই রেঞ্জ অফিসারকে সরাসরি মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, বন বিভাগের মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর