প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তার স্ত্রী কেট জারো খানের আয়োজিত এক নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু প্রতিবেশী ও অভিন্ন সীমান্তের দেশ নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের হৃদয় কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি ‘সোনালি অধ্যায়’ দেখতে চান।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ। ফলে দুই দেশের নিজস্ব অবস্থান ও মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। এসব মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, দুই দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে উভয় দেশের লক্ষ্য অভিন্ন হলে এবং মানুষ মর্যাদা, সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে বসবাস করতে পারলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুজনই জনগণের নেতা। তারা একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। আমরা ইতিবাচকভাবে বিশ্বাস করি, দুই নেতা যদি একসঙ্গে বৈঠক করেন, তাহলে আলোচনা হবে।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশা ভালো সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে তা উভয় দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।
এর আগে গত শনিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশকে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের ‘অসাধারণ বন্ধন’ আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাসের বন্ধনে আবদ্ধ। অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।
বারিধারার ওই নৈশভোজে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাবেক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর