যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর পরমাণু হামলা চালালে তেহরানও অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী পাল্টা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ফাদা হোসেইন মালেকি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের সংবাদমাধ্যম খবার অনলাইনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
খবার অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে পরমাণু হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মালেকি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ‘অপরিণামদর্শী’ সিদ্ধান্ত নেবেন—এমন সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তার মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস ট্রাম্প করবেন না, কারণ এতে বিশ্ব ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে।
মালেকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা চালায়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও জবাব দেবে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী সেই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
ইরান পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অস্ত্রই ব্যবহার করুক, ইরানও তার জবাব দেবে। তবে মালেকি সরাসরি দাবি করেননি যে ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক পদক্ষেপের ব্যাপারেও সতর্ক করেন এই ইরানি আইনপ্রণেতা। তিনি বলেন, তেহরানের হাতে ‘একাধিক বিকল্প’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়েও কঠোর জবাব দেওয়া হতে পারে।
মালেকির দাবি, ইরানের অনেক অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তার ভাষায়, তেহরান এখন কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং ‘সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ’ সক্ষমতার দিকে এগিয়েছে।
এদিকে তেহরান-ওয়াশিংটন স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন মালেকি। তার দাবি, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ওয়াশিংটন আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ইরান আলোচনায় ফিরবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওমানের সঙ্গে ইরানের চলমান আলোচনা একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া। এসব আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তেহরান রাজি হয়নি।
এর আগে গত জুনের মাঝামাঝি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত চুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে এর বাস্তবায়ন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা থমকে যায়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা জবাব দেয়। এরপর অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু এবং মার্কিন স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর