যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইউরোপের দেশগুলো অতিরিক্ত ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বাজারে প্রভাব ফেলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৫ ডলারে স্থির হয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৭৬ ডলার বা ১ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ১১ ডলারে নেমেছে।
সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। তবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
রয়টার্স জানায়, ফ্রান্সের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো অতিরিক্ত ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলো প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল মজুত ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলোকে আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরোপ ২০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে ডিজেলের একটি অংশ বাজারে ছাড়তে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার জি-৭ নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে ভিডিও বৈঠক করেন। তবে জি-৭ দেশগুলো প্রস্তাবিত পরিমাণ অনুযায়ী জ্বালানি মজুত ছাড়তে সম্মত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন। তার এমন অবস্থানের পর ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি হতে পারে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন জ্বালানি বাজারে মূল চাপ অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতায় নয়; বরং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় শোধনাগারের সক্ষমতা ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার তেলের দাম বেড়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের শোধনাগারগুলো অভ্যন্তরীণ মজুত সংরক্ষণের জন্য অক্টোবরে তেলজাত পণ্যের রপ্তানি স্থগিত করেছে। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী ও আরও ১০ হাজার পর্যন্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু ও পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসাইন বলেন, তেল মজুত থেকে আরও সরবরাহ বাজারে এলে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের প্রবাহ বাড়তে থাকলে সামগ্রিক বাজার সামান্য উদ্বৃত্তের দিকে যেতে পারে।
তবে বার্কলেসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়লেও বাজারের মৌলিক পরিস্থিতি এখনো শক্তিশালী। মজুত কমছে এবং তাৎক্ষণিক সরবরাহের তেলের দামে ভবিষ্যৎ সরবরাহের তুলনায় বড় প্রিমিয়াম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্টের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার বাড়িয়ে ১১৫ ডলার করেছে। ২০২৬ সালের জন্য ব্রেন্টের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ১০০ ডলার করা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার সামারা ও ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর