• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪ মিনিট পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩৫ দুপুর

২৫ দিনের সংকট কাটতেই ফের গ্যাসের ধাক্কা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি যখন কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল, তখনই ফের ধাক্কা। নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গতকাল বুধবার বেলা তিনটা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে সংকট নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে।

গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু নতুন কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুতের ওপর নির্ভর করে চলছিল এক্সিলারেট। সোমবার থেকেই ওই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আজ তা শূন্যে নেমে এসেছে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে দেশে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা জানান, টার্মিনালে পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত না থাকায় সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কেনার জন্য সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গারের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি আগস্ট মাসেই এর চারটি কার্গো দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। ফলে কার্গো কেনার পরও তা সময়মতো না আসায় টার্মিনাল প্রস্তুত থাকার পরও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।

জানা গেছে, গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৫ দিন পর শনিবার টার্মিনালটি আবার এলএনজি সরবরাহের উপযোগী হয়। তবে নতুন কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তারা। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই মজুতও ফুরিয়ে আসে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতিরও আপাতত কোনো লক্ষণ নেই। বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, এক্সিলারেটের জন্য একটি কার্গো ২৩ বা ২৪ আগস্ট আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ অন্তত আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এই গ্যাসের বড় অংশই মহেশখালীর দুই ভাসমান টার্মিনাল হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কার্গো সংকটে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গত শুক্রবার বিকেলে দুই টার্মিনালই বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ ভয়াবহভাবে কমে দৈনিক ১৬৪ কোটি ঘনফুটে নেমেছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় সামিট থেকে ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। পরে শনিবার ভোরে সামিটের সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়ায় ২৪২ কোটি ঘনফুটে। এরপর অবশ্য পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে যায়। রোববার সরবরাহ কমে ২৪০ কোটি ঘনফুটে এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। আজ এক্সিলারেটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ আরও কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১৮ কোটি ঘনফুটে।

একই সঙ্গে এলএনজি থেকেও সরবরাহে বড় পতন ঘটেছে। গতকাল এলএনজি থেকে প্রায় ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও আজ এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ার পর তা নেমে এসেছে ৫৫ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ অগ্নিদুর্ঘটনায় একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার নতুন কার্গো না আসার কারণে আবারও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। টার্মিনাল প্রস্তুত, পাইপলাইন প্রস্তুত, কিন্তু এলএনজি না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশই এখন অচল পড়ে আছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

রোহান/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]