ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নারী হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের হামলায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের আহত হওয়ার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বটতলায় গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, “গতকাল ঢাবি টিএসসিতে ছাত্রদলের একটি মিছিল থেকে কয়েকজন উত্ত্যক্তকারী ছাত্রনেতা মেয়েদের লাঞ্ছনা ও গালিগালাজ করে। সেখানে উপস্থিত ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, ঢাবির সাধারণ সম্পাদক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি অনিন্দ্য তা রুখে দিলে ছাত্রদল তাদের ওপর হামলে পড়ে এবং আহত করে, তারা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি করে। ফলে তারা পশু ও নৃশংস হয়ে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। ছাত্রদলের সন্ত্রাসী চরিত্রের বিরুদ্ধে আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক লড়াই চলবে। আমরা গতকালের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বিক্ষোভে আরো সংহতি প্রকাশ করে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, “ছাত্রদল নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দাবি করে, অথচ তারা নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে এবং কেউ আটকাতে এলে তার ওপর হামলা করে। এই দায়ভার পুরো ছাত্রদল সংগঠনকে নিতে হবে। এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কাজ করে নিজেদের দয়া করে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দাবি করতে আসবেন না।”
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হাসান শুভ ছাত্রদলকে সতর্ক করে বলেন, “আমি ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা এই ভুল করবেন না। আপনাদের পূর্বের প্রবল পরাক্রমশালী সময় থেকে শিক্ষা নিন, দেশের সব ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের মতো সংগঠনকে বিতাড়িত করতে দুই ঘণ্টাও সময় লাগেনি। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড জারি রাখলে আপনারা লুঙ্গি গোঁজারও সময় পাবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “নারীদের ওপর নিপীড়ন করবেন না। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ বজায় রাখুন। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ালে বাংলাদেশের কোনো স্থানে আপনাদের জায়গা হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, গতকালের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অর্থ হলো এই ঘটনার প্রতি আপনাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন আছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, অন্যথায় আপনারা আপনাদের ক্রেডিবিলিটি হারিয়ে ফেলবেন।
এবিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রইউনিয়ন সেক্রেটারি ফাইজান অর্ক বলেন, "এক জালিমের পতনের পর আরেক জালিমের উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য হতাশাজনক। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও ক্যাম্পাসে নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গতকাল রাজু ভাস্কর্যে মিছিলের সময় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং এর প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নতুন বাংলাদেশের চেতনা ও সুস্থ ছাত্ররাজনীতির পরিপন্থী। ক্ষমতায় গেলে কেউ যেন জবাবদিহির বাইরে থাকার মানসিকতা তৈরি না করে এটাই প্রত্যাশা।"
শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্তৃক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ভয় ও নিপীড়নের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল এবং ভিন্নমতের ওপর হামলা চালাত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাস ও নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ছাত্রদলের এমন কর্মকাণ্ড সেই প্রত্যাশার বিপরীত। ক্ষমতায় যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তারা অতীতের নিপীড়নের কথা ভুলে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রদলকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে সন্ত্রাস ও নিপীড়নের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান অদ্রি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর