আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছেন হাতিয়ার সন্তান কনস্টেবল অমিত হাসান। সাহসিকতা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাকে পুরস্কৃত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ নিজ কার্যালয়ে কনস্টেবল অমিত হাসানকে ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন’ এবং অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।
গত ২৫ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার শেখ হাসিনা সড়কের প্রথম ব্রিজে রাত প্রায় ১০টা ৫ মিনিটে এক নারী ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্তও দেরি না করে প্রায় ৪০ হাত উঁচু ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। সাঁতরে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন তিনি।
জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগৎসার গ্রামের ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরিবারের সঙ্গে শিমরাইলকান্দি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি। পারিবারিক নানা কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কনস্টেবল অমিত হাসান বলেন, ‘চাকরি জীবনে এটি আমার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোর একটি। আমরা চার বন্ধু মিলে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, একজন নারী ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা চিৎকার করে স্থানীয়দের তাকে বাঁচানোর জন্য বলি। কিন্তু অনেক মানুষ জড়ো হলেও কেউ পানিতে নামছিলেন না। তখন আর এক মুহূর্ত দেরি করার সুযোগ ছিল না। নিজের জীবনের কথা না ভেবে প্রায় ৪০ হাত ওপর থেকে নদীতে ঝাঁপ দিই। সাঁতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আল্লাহর রহমতে তাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পেরেছি।’
অমিত আরও বলেন, ‘একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। এমন একটি মহৎ কাজের অংশ হতে পেরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। এ কাজে আমার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের সহযোগিতার জন্য আমি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আজকের এই পুরস্কার আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর