• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৫ মিনিট পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০২ দুপুর

সালাহউদ্দিন আহমদ যেভাবে গুম হয়েছিলেন, বর্ণনা দিলেন ফ্ল্যাট মালিক

ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ওই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রাষ্ট্রগুলোকে এ ধরনের ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটিকে সামনে রেখে দেশে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত সালাহউদ্দিন আহমদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিও।

ঢাকার উত্তরায় যে ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেই ফ্ল্যাটের মালিক ও তার ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত বাসসের কাছে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে যায়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬টি স্থানে অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি বাড়ানো হয়। ৪ জানুয়ারি গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপির প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতাকে একে একে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরই মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিলেন দলটির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কয়েক দিনের মধ্যেই তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংঘাতময় পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে বলে দাবি করেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

সৈয়দ হাবিব হাসনাত বলেন, ‘সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব ও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে। সন্দেহজনক সব জায়গায় তাকে খুঁজতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি গুলশানের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান পরিবর্তন করে দলীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয়ে যায় যে সালাহউদ্দিন গুলশান এলাকায় অবস্থান করছেন। তবে ঠিক কোন বাড়ি বা ফ্ল্যাটে তিনি আছেন, তা তখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সালাহউদ্দিনকে দ্রুত গুলশান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

হাবিব হাসনাত বলেন, ‘আমি তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি। গুলশানে সালাহউদ্দিন ভাই যেখানে থাকতেন, তার কিছুটা দূরেই ছিল আমার অফিস। দল ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাকে স্থান পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি জায়গার কথা বলা হলে তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’

‘ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভবত শেষ দিন। দুপুরে লাঞ্চ করতে যাব, এমন সময় সালাহউদ্দিন ভাই ফোন করলেন। তিনি বললেন, দ্রুত গুলশান থেকে সরে পড়তে হবে এবং তিনি আমার উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনাকে আমিই নিয়ে যাব। সন্ধ্যার পর আসব, প্রস্তুত থাকবেন।’

কথামতো বিকেল ৫টার দিকে গাড়ি নিয়ে গুলশানে যান হাবিব হাসনাত। তিনি জানান, সালাহউদ্দিন যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, সেটির তথ্য খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানতেন না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিনের স্ত্রী এবং দলের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নেতাও বিষয়টি জানতেন।

হাবিব হাসনাত বলেন, ‘আমি বাড়িটির কিছুটা দূরে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম, পাশে একটি মিষ্টির দোকান আছে, তুমি গিয়ে মিষ্টি খাও। কারণ, ড্রাইভারকে তো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। এরপর আমি নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাড়িটির নিচে গিয়ে সালাহউদ্দিন ভাইকে ফোন করি। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নেমে এলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল।’

‘তাদের দুজনকে গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়ে আমি উত্তরার উদ্দেশে রওনা হলাম। পথে এমন সব রাস্তা বেছে নিয়েছিলাম, যেদিকে পুলিশের কোনো চেকপোস্ট ছিল না। সন্ধ্যার কিছু পর তাদের নিয়ে উত্তরার ফ্ল্যাটে পৌঁছাই।’

উত্তরার ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পরও নিরাপত্তাকর্মীদের যাতে সন্দেহ না হয়, সে জন্য কৌশল নেন হাবিব হাসনাত। তিনি বলেন, ‘সেখানে দারোয়ানদের কিছু জানতে দেওয়া যাবে না। তাই দায়িত্বে থাকা দারোয়ানকে ডেকে বললাম, আমি ওপরে যাচ্ছি, তুমি আমার জন্য দুই প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো, আমি গেটেই দাঁড়াচ্ছি।’

‘দারোয়ান বাইরে পা রাখা মাত্রই আমি গাড়ির দরজা খুলে দিলাম। সালাহউদ্দিন ভাই এবং তাবিথ আউয়াল গাড়ি থেকে নেমে গেলেন। তাদের দ্রুত নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে উঠে যেতে বললাম। সেখানে একজন বাবুর্চি ও একজন সহকারীকে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম। তাদের বলে দিলাম, মেহমান এখানে থাকবেন, তার সব ধরনের সেবাযত্ন তোমরাই করবে।’

এরপর অন্যান্য ব্যবস্থা শেষ করে হাবিব হাসনাত সেখান থেকে বের হয়ে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে ওঠেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরার ওই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকেন। এভাবেই একদিকে আন্দোলন চলছিল, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজছিল।

হাবিব হাসনাত বলেন, ‘১০ মার্চ আমি উত্তরায় যাই। সন্ধ্যার পর উত্তরা এলাকার প্রতিদিনের দৃশ্যপট আমার ভালোভাবেই পরিচিত। কিন্তু সেদিন এলাকায় ঢোকার পর থেকেই একধরনের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলাম। কিছু সড়কের বাতি নেভানো, কোথাও গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে কোনো মানুষের দেখা নেই। আবাসিক এলাকার দোকানপাটও বন্ধ।’

‘এলাকার ভেতরে কয়েকটি খেলার মাঠ আছে, যেখানে সন্ধ্যার পর তরুণরা খেলাধুলা করে। কিন্তু সেদিন সেখানেও কাউকে দেখলাম না। আমার মনে দারুণ এক খটকা লাগল। বাড়ির কাছাকাছি যেতেই দেখলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থান।’

তিনি বলেন, ‘আমি সাহস করে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম। দারোয়ানকে খুব মনমরা দেখাচ্ছিল, কিন্তু সে কিছু বলল না। ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়ে চমকে উঠলাম—দরজা ভাঙা। আমাকে দেখেই ভেতর থেকে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এল বাবুর্চি ও সহকারী। তারা দুজন বলল, মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে।’

হাবিব হাসনাত বলেন, ‘আমি ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি যদি ধরা পড়ি, তাহলে আমাকেও গুম করা হতে পারে—এটা বুঝতে বাকি ছিল না। আবার আমি যদি বাইরে না থাকি, তাহলে সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছে, তা বলারও কেউ থাকবে না।’

তিনি জানান, এ চিন্তা থেকেই দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভিসা আগে থেকেই করা ছিল। ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে থাকা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক কাপড়েই বিমানবন্দরে চলে যান। সহযোগীদের মাধ্যমে দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, ‘বিমান যখন দুবাই এয়ারপোর্টে, তখনই উত্তরা থানার ওসির ফোন পেলাম। তিনি আমাকে খুঁজছেন বলে জানালেন।’

পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমন একটি এলাকায় অবস্থান নেন হাবিব হাসনাত, যেখানে বাংলাদেশি মানুষের বসবাস তুলনামূলক কম। সেখান থেকে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ হতো বলে জানান তিনি।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। বরং তিনি আত্মগোপনে গেছেন—এমন বক্তব্যও দেওয়া হতে থাকে। হাবিব হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ তাকে খুঁজে বের করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একদিন ম্যাডাম খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে বললেন, আমি যেন আমেরিকা বা দুবাইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করি। সেখানে বলি, সালাহউদ্দিন ভাইকে আমার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে এবং তিনি আমার ফ্ল্যাটেই ছিলেন। আমিও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

‘কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বলা হলো—চুপ, একদম চুপচাপ থাকবেন। যদি একটি কথাও বলেন, তাহলে চিরজীবন আর দেশেও আসতে পারবেন না। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হলো। এই কারণে আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। এভাবেই আমেরিকার মাটিতে আমার অনেক দিন কেটেছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার আগে তার দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে ৭ মার্চ র‌্যাব গ্রেপ্তার করে বলে দাবি করা হয়। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের সন্ধানে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে র‌্যাব তল্লাশি চালায়। ওই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন সৈয়দ হাবিব হাসনাত।

এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর আগে তার গুলশানের অবস্থানস্থলেও একাধিকবার তল্লাশি চালানো এবং বাড়ির গেটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি বসানোর অভিযোগ করা হয়।

১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই নিয়ে গেছেন—এমন দাবি করার মতো একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন।

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। পিকআপে থাকা সদস্যরা ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। পরে ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে।

তবে ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সালাহউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছিল এবং তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে খালেদা জিয়াকেই জবাব দিতে হবে। তিনি সালাহউদ্দিনের আত্মগোপনে থাকার ইঙ্গিতও দেন।

এরপর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন বা আত্মগোপনে আছেন—এমন বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ের শিলংয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান পাওয়ার পরও সেই বক্তব্যের রেশ থামেনি।

ওই দিনই রাজধানীর এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ প্রসঙ্গে বলেন, এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়—এটি আত্মগোপন। তার দাবি ছিল, আত্মগোপন আর গুম এক বিষয় নয় এবং দলীয় প্রধানের নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আত্মগোপনে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের লাখো মানুষ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে এবং অনেকে জীবন দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনিও সে সময় নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিলেন বলে জানান।

হাবিব হাসনাত বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে তারুণ্যের রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সেই জালিমের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। এখন আমাদের সবার উচিত বিভেদ-বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা এবং দেশকে সমৃদ্ধ করে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ জন্য সবাইকে ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে শেষ পর্যন্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এ কথাটি সব সময় মনে রাখতে হবে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]