ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। তার নাম ইসমাইল হোসেন (৫০)। মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা।
নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। একসময় ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।
নিহতের ছেলে হাসান জানান, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতেই তার বাবা জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল।
হাসান বলেন, জমি বিক্রির টাকা থেকে আগের ২ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করেন তার বাবা। পরে গ্রামে একটি ঘর নির্মাণে কিছু টাকা খরচ করেন। বাকি প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। তার সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল। তবে লাশ উদ্ধারের পর এসব কিছুই পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন ইসমাইল। রাত ১১টার দিকে তিনি ছেলেকে ফোন করে সকালে পৌঁছানোর কথা জানান। শুক্রবার সকালে গাজীপুরের জিরানীতে তার নামার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর বনানী থানা থেকে বিষয়টি জামালপুর পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের দেওয়া খবর পেয়ে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ইসমাইলের লাশ শনাক্ত করেন।
শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তার মুখে টেপ মারা ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কোনো গাড়িতে করে এনে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা ক্যামেরা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে মরদেহ বহনকারী গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং ইসমাইলের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোনের কী হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর